পারভেজ আহমদ ::: আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, সবার মোবাইল একই
এনআইডি সেবা নিতে আসা এক সেবাপ্রত্যাশীকে চড় মারার ঘটনায় আলোচনায় থাকা সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস এবার আলোচনায় এসেছে তাদের সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্য নিয়ে। অফিসটির সরকারি ওয়েবসাইটে কর্মকর্তাদের তথ্যের সঙ্গে দেওয়া মোবাইল নম্বর ঘেঁটে দেখা গেছে, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, গাড়িচালক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী পর্যন্ত একাধিক কর্মীর জন্য একই মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে।
সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসের সরকারি ওয়েবসাইট ec.sylhetdiv.gov.bd-এর কর্মকর্তাদের তথ্যের পাতায় এমন অসংগতি দেখা যায়। ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দীন, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. মহসিন আহমেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. হাসান আহমদ, গাড়িচালক মিলাত হোসেন এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী সায়েম আহমদ-এর মোবাইল নম্বর হিসেবে একই নম্বর দেওয়া হয়েছে।
শুধু তাই নয়, ওয়েবসাইটের তালিকায় এসব কর্মীর অনেকের অফিস ও বাসার ফোন নম্বরের ঘর ফাঁকা রয়েছে। কারও কারও ই-মেইল ঠিকানাতেও অসঙ্গতি রয়েছে। যেমন, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. মহসিন আহমেদের ই-মেইল হিসেবে reosylhet@ecs.gov.bd এবং অন্য একজনের ক্ষেত্রে reosylhet@gmail.com দেওয়া হয়েছে।
ওয়েবসাইটে কর্মকর্তাদের তথ্যের সঙ্গে ‘ভিজিট কার্ড ডাউনলোড করুন’ ও ‘দেখুন’ অপশনও রাখা হয়েছে। ফলে সেবা প্রত্যাশী কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সরকারি ওয়েবসাইট থেকে কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তথ্য নিলে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষ করে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত নম্বর যদি একইভাবে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, গাড়িচালক কিংবা পরিচ্ছন্নতাকর্মীর তথ্যেও যুক্ত থাকে, তাহলে সরকারি তথ্য ব্যবস্থাপনার মান নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে এনআইডি সেবা নিতে আসা এক ব্যক্তিকে চড় মারার অভিযোগের ঘটনায় সম্প্রতি ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। ওই ঘটনার পর অফিসটির সেবার মান, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণ এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যেই সরকারি ওয়েবসাইটে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগাযোগের তথ্যে এমন অসংগতি নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, নির্বাচন অফিসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম, পদবি, ফোন নম্বর ও ই-মেইলের মতো মৌলিক তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ এবং নির্ভুল থাকা জরুরি। এসব তথ্য ভুল থাকলে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে পারেন।
ওয়েবসাইটে থাকা তথ্যের বিষয়ে জানতে সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তা মো. আলা উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।